প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের একটাই লক্ষ্য, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে মহামারি মোকাবিলা করা। আমরা একটি রোগ (হাম) মোকাবিলা করে যখনই এগিয়ে যাচ্ছি, তখনই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে যার যার অবস্থান থেকে চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ডেঙ্গুর চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রটোকল মেনে চলুন।”
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশে আপনাদের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু চিকিৎসার বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা সবাইকে মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে রোগীদের ঢালাওভাবে অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া এবং প্লাজমা লিকেজ শুরু হলে প্রতিটি রোগীর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তিনি। প্লাজমা লিকেজের সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লুইড (স্যালাইন) দিতে হবে, যাতে রোগী শকে চলে না যায়। চিকিৎসকেরা যেন এই বিষয়গুলো নিজেদের সহকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দেন এবং রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করেন।”
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কোনো এলাকায় সমস্যা তৈরি হয় বা রোগী অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে আমাদের জানাবেন। আমরা যেভাবেই হোক সেখানে অতিরিক্ত চিকিৎসক সরবরাহ করব। প্রয়োজনে চিকিৎসকদের বণ্টন করে দেওয়া হবে, তবুও আমাদের দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে।” একই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এ সময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সফলতা কামনা করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আগামী বাজেটে ইনশাআল্লাহ আমাদের বিএনপি সরকার স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করবে। তবে শুধু বাজেটই যথেষ্ট নয়, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মিলে এই বাজেট সাধারণ মানুষের সেবায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”
ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে, যেখানে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলার হাসপাতালকে অন্তত ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। চিকিৎসক সংকট নিরসনে বড় পরিসরে নতুন নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিৎসক-নার্স অনুপাত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান।
ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালামসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন