প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আদ-দ্বীন হাসপাতালের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তুর আধিক্য থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয়। বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল জবাব দিয়েছে, সেটি পড়েছি। প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনী তারা লিখেছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকের পর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে আমি সন্তুষ্ট নই।’
জবাবের বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখেছে, কিন্তু সবই ভেগ (অস্পষ্ট) রিপ্লাই। প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বেশি লিখেছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করে সরকারের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে এবং বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতকের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযোগী ছিল না; সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।
এছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত না থাকা এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নবজাতকদের জন্মের পর প্রাথমিকভাবে সুস্থ বলা হলেও হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে যথাযথ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটিকেও দায়ী করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এখন সেই জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন