প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। আজ বুধবার মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে অঞ্চলটিজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এমন সংকটময় ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে চীন।
আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিং জিয়ান বলেন, ‘ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত শান্ত থাকা এবং সংযম প্রদর্শন করা, সংঘাতকে আরও তীব্র করা ও পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানো থেকে বিরত থাকা। উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য তাদের বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বামানি এলাকায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়। এই মার্কিন আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতেই আইআরজিসি অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান ও নৌঘাঁটিসহ ২১টি সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রয়েছে। যদিও জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে এবং এর ধ্বংসাবশেষে কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। কুয়েতের সেনাবাহিনী বুধবার ভোরে কয়েকটি ‘শত্রুতামূলক’ আকাশযান প্রতিহত করার কথা নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে ইরানের এই এলিট বাহিনী।
স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা শুরু করে আইআরজিসির নৌবাহিনী। চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে আইআরজিসি জানায়, ‘সংঘর্ষ এখনও চলছে।’ চরম এই উত্তেজনার মাঝে প্রতিবেশী বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর ঘোষণা দিয়েছে।
আইআরজিসি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, নতুন করে কোনো হামলা হলে তাদের বাহিনী ‘চূর্ণবিচূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে পরবর্তী যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার মার্কিন বাহিনীকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন হামলার পর বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না।’
ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আরাগচি আরও বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও।’
সবশেষে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের ভয়াবহ পরিণতির বহু অধ্যায় রয়েছে।’
মন্তব্য করুন