প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২৬, ০৯:৫৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী বিদ্যালয় শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হচ্ছে। দেশব্যাপী তীব্র জনক্ষোভ এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের সরকারি আশ্বাসের পর, ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দিতে যাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিশ্চিত করেছেন।
আইনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দ্রুততায় মাত্র পাঁচটি শুনানির মাধ্যমে এই মামলার সমস্ত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের ১ জুনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তার পরের দিনই (২ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গত ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণা করার নজির তারা স্মরণ করতে পারছেন না।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩১) এবং তার স্ত্রী ও সহ-আসামি স্বপ্না খাতুনের (২৬) সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও সূক্ষ্ম জেরার মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে দাবি করেছে যে, পুলিশের অভিযোগপত্রটি মূলত প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কথিত অস্ত্রটির কোনো বৈজ্ঞানিক বা রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়নি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক ভবনে প্রতিবেশী সোহেলের ঘর থেকে পপুলার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২০ মে প্রতিবেশী সোহেল, স্বপ্না ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল Hannan মোল্লা। তদন্তকারী জেলেরা জানান, আসামি সোহেল শিশু রামিসাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে অপরাধ ধামাচাপা দিতে সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে এবং লাশ টুকরো করার চেষ্টা চালায়।
হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আলামত ধ্বংস, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং স্বামীকে এই জঘন্য অপরাধে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্র দাখিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন