আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:২৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা হামলা শুরু করে এবং এটিকে ‘ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সমানুপাতিক জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। হামলায় মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে নির্ভুল অস্ত্রের মাধ্যমে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এর আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরানি বাহিনী ভূপাতিত করেছে এবং সেটি ওমান উপসাগরে পতিত হয়েছে।

পরবর্তীতে জানা যায়, ইরানি বাহিনী ‘শাহিদ’ ড্রোন ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটি আঘাত করে থাকতে পারে। তবে এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল কি না, নাকি ভুলবশত সংঘটিত হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই পাইলট সমুদ্রে পড়ে যান। পরে ড্রোনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়, যা সামরিক উদ্ধার অভিযানে নতুন এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, পাইলটরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

এই ঘটনার পরপরই ইরান-এর পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস, কিশম ও সিরি অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ত্যাগেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

মন্তব্য করুন