প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ০৯:৪৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই এই ইতালিয়ান কোচ। বিশ্বকাপের আগে শেষ পরীক্ষায় দলের কিছু পুরোনো সমস্যা এবং নতুন করে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ওয়েসলির চোট তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এই ম্যাচে ব্রাজিলের বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে:
রক্ষণভাগের দুর্বলতা: এই নিয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচে গোল হজম করেছে ব্রাজিল। মারকিনিওসের ভুল এবং ডিফেন্ডারদের ‘ওয়ান অন ওয়ান’ লড়াইয়ে বারবার পরাস্ত হওয়ার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমন্বয়হীনতা: বল দখলে রাখার সময় মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের মধ্যে ফাঁকফোকর দেখা গেছে। লুকাস পাকেতা শুরুতে স্বচ্ছন্দ থাকলেও আক্রমণভাগে বলের প্রবাহে পরিষ্কার ঘাটতি ছিল।
সুযোগ নষ্ট: নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়েরা বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। লিড নেওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা তরুণ এনদ্রিকের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে।
ক্লাব ফুটবলে তুমুল সফল আনচেলত্তি তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের দায়িত্বে রয়েছেন। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তিনি এখনো নিজের সেরা রূপ খুঁজছেন। তবে তাঁর রণকৌশলের কিছু দিক ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে:
ফরমেশন: তিনি মূলত ৪-৪-২ ছকে খেলিয়ে মাঠের জায়গার কার্যকর ব্যবহার করতে চান।
মূল দর্শন: রক্ষণভাগে দৃঢ়তা ও সংগঠন এবং আক্রমণভাগে তারকাদের নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের জন্য স্বাধীন পরিবেশ তৈরি করা।
কোর স্কোয়াড নির্বাচন: প্রীতি ম্যাচগুলোর ফলাফলকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে তিনি মূলত বিশ্বকাপের জন্য ১৬ জনের একটি ‘কোর স্কোয়াড’ প্রস্তুত করেছেন, যাঁদের সামনে রেখেই রণকৌশল সাজানো হবে।
আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যে খেলোয়াড়দের ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা দেখা গেছে:
| পজিশন | খেলোয়াড়ের নাম | আনচেলত্তির অধীনে পরিসংখ্যান ও অবস্থা |
|---|---|---|
| মিডফিল্ড | কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস | সবচেয়ে বেশি শুরুর একাদশে খেলেছেন (কাসেমিরো ১২ বার, ব্রুনো ১১ বার)। |
| আক্রমণভাগ | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিয়মিত একাদশে ছিলেন। রাফিনিয়াও শুরুর একাদশে প্রায় নিশ্চিত। |
| রক্ষণভাগ | মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস | সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দলের নিশ্চিত পছন্দ। |
| ফুলব্যাক | অ্যালেক্স সান্দ্রো | ফুলব্যাক হিসেবে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: স্ট্রাইকার পজিশনে আনচেলত্তি হয়তো নির্দিষ্ট কারও ওপর এককভাবে ভরসা করবেন না। এছাড়া চোট কাটিয়ে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরলে দলের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাইয়ের জায়গায় মাজিনহো কিংবা ২০০২ বিশ্বকাপে জুনিনিও পাউলিস্তার পরিবর্তে ক্লেবারসনের অন্তর্ভুক্তি পুরো দলের চেহারা ও ভারসাম্য বদলে দিয়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যে টানা আট ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলতে আনচেলত্তিকেও হয়তো এমন কোনো ‘গেম চেঞ্জিং’ পরিবর্তনের পথেই হাঁটতে হবে।
খাতায়-কলমে ব্রাজিলের একটি শক্তিশালী স্কোয়াড থাকলেও তারা এখনো পুরোপুরি একটি নিশ্ছিদ্র দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষভেদে কার্যকর একাধিক স্কোয়াড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই ধারা হয়তো বিশ্বকাপের মাঝপথ পর্যন্তও চলতে পারে।
মন্তব্য করুন