প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের পথে—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে দুই পক্ষ। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় উভয় দেশই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি সই হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, চুক্তিতে এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এই সংঘাত শেষে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং ‘এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী’।
সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হতে পারে। এর পরবর্তী ধাপে শুরু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
সূত্রগুলো জানায়, চুক্তির আওতায় ইরানের আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করা এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই এসব সুবিধা কার্যকর হবে। একইসঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে হবে এবং কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হোক। অন্যদিকে ইরান সেই ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করে এর ঘনত্ব কমানোর পক্ষে।
চুক্তির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে জেনেভার নাম আলোচনায় থাকলেও, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এ চুক্তিতে সই করতে পারেন।
এদিকে এই আলোচনায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই চুক্তির কোনো অংশ হবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসবে। তবে পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে মতভেদ থেকেই যেতে পারে।
মন্তব্য করুন