তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১১:১১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সংশোধিত বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকা কমল, বাড়ল ২৭ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। তবে একই সঙ্গে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

বাজেট নথি অনুযায়ী, মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিপরীতে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। ফলে মোট বাজেটের আকার কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

সংশোধিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ পেয়েছে অর্থ বিভাগ—২৮ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমলেও অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ, শেয়ার মূলধনে বিনিয়োগ, ভর্তুকি ও প্রণোদনার কারণে এ বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন এবং চলমান দুটি প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় এই বৃদ্ধি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পেয়েছে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, যা থোক বরাদ্দ হিসেবে জরুরি ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ৪ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা পেয়েছে, যার বড় অংশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া—

  • স্থানীয় সরকার বিভাগ: ১,৮০৯ কোটি টাকা
  • পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: ২,১৭৭ কোটি টাকা
  • আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ: ১,৬৯১ কোটি টাকা (কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির জন্য)
  • খাদ্য মন্ত্রণালয়: ৬৮৪ কোটি টাকা (ওএমএস সম্প্রসারণে)
  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: ৩০২ কোটি টাকা

আইন ও বিচার বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)–কেও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন, ঋণ ব্যবস্থাপনা, ভর্তুকি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং বড় প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতি, ধীর ব্যয় এবং ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সমাজকল্যাণসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

সংশোধিত বাজেটে দেখা যাচ্ছে, মোট বরাদ্দ কমলেও সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বল্পমেয়াদি চাপ মোকাবিলার কৌশল হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও সেবাখাতের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন