অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:১৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি: ভুক্তভোগীর জবানবন্দি

ছবি: সংগৃহীত

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ছাদে ধর্ষণের শিকার হওয়ার সময় চিৎকার–চেঁচামেচি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।

বুধবার (১০ জুন) সকালে ১৮ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির করেন। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন আরা তার ২২ ধারার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী জানান, শিশুসন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। গরমের কারণে তিনি ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে লিফটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তার হাত ধরে জোরপূর্বক লিফটে তুলে হাসপাতালের ছাদে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ছাদে নেওয়ার পর তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার–চেঁচামেচি করেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। সেখানে অমিত তাকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় অনিল ও প্রাঙ্গণ নামের আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে অমিতের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে পুনরায় হয়রানির চেষ্টা করেন। তবে অমিত তাদের বাধা দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওয়ার্ডে ফিরে তার সন্তানকে কান্নাকাটি করতে দেখতে পান এবং পরে হাসপাতালের আনসার সদস্যদের কাছে ঘটনার বিষয়টি জানান।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ জুন নাটোর শহরের এক নারী তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৭ জুন রাত ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে এই ঘটনার শিকার হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন