প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর নালাপাড়ার ৯৮ নুর টাওয়ারে ব্যতিক্রমী এক ফল উৎসব এর আয়োজন করেছে মানবিক ও সামাজিক সংগঠন সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশন।
মৌসুমী ফলের সমাহারে সাজানো এই উৎসবটি
কেবল ফল বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য এক দৃষ্টান্ত হিসেবে।
মোঃ নুরের প্রাণবন্ত ও সাবলীল সঞ্চালনায় এবং সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমিন সালমান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন (আশাক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাগ্রত ব্যবসায়ী ও জনতা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
সেইভ দ্যা হাঙ্গার পিপলস এর প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব মোঃ সোহেল হক। আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন। লিগ্যাল এইড কোতোয়ালি থানার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ডাবলমুরিং থানার সভাপতি হাবিবুর রহমান। হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এআর নাহিদ। মানবিক সংগঠক মোঃ সেলিম মোশারফ এবং মানবাধিকার নেত্রী মোসাঃ সোহাগী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ও কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল নুর। সভাপতির বক্তব্যে তিনি তার মানবিক কাজের দীর্ঘ পথচলা এবং এই ফল উৎসবের পেছনের উদ্দেশ্য সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ফাউন্ডেশনটি প্রতিনিয়ত অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে জানিয়ে আবদুল নুর তার বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা কেবল উৎসব করার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করিনি। আমাদের লক্ষ্য হলো, বাজারে ফলের যে আকাশচুম্বী দাম, তাতে যেন গরিব মানুষ ও শিশুরা পুষ্টিহীনতায় না ভোগে। সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশন সবসময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমিন সালমান বলেন, সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়। ফল উৎসবের মতো একটি ব্যতিক্রমী চিন্তা কেবল মানবিক হৃদয়ের মানুষের পক্ষেই সম্ভব। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের এভাবে পুষ্টিকর ফলমূল দিয়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের এই অগ্রযাত্রায় সবসময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লায়ন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল নুর চট্টগ্রামের বুকে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। শত ব্যস্ততার মাঝেও সমাজের অবহেলিত মানুষের পুষ্টির কথা চিন্তা করে আজকের এই ফল উৎসব আয়োজন সত্যিই অনন্য। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে এগিয়ে আসি, তবে সমাজে কোনো মানুষ আর ক্ষুধার্ত বা পুষ্টিহীন থাকবে না। তিনি আরো বলেন, একা কোনো সংগঠনের পক্ষে সমাজের সকল অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবানদের উচিত সুফিয়া নুর ফাউন্ডেশনের মতো মানবিক সংগঠনগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং নিজেদের উদ্বুদ্ধ করে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া। ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচিয়ে একটি সুস্থ-সবল সমাজ গঠনে বিত্তবানদের এই অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
উৎসবের শেষ পর্বে উপস্থিত শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা পদের পুষ্টিকর মৌসুমী ফল অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হয়। নানান পদের ফল পেয়ে শিশু ও হতদরিদ্র মানুষের মুখে ফুটে ওঠে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি, যা এই আয়োজনের মূল সার্থকতাকে প্রমাণ করে।
মন্তব্য করুন