তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:০৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চীনে ১২ কোটি বছরের পাখিসদৃশ ডাইনোসরের জীবাশ্ম, মিলল নতুন প্রজাতির সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম চীনে ১২ কোটি বছর পুরোনো পাখিসদৃশ ডাইনোসরের একটি জীবাশ্ম আবিষ্কারের মাধ্যমে নতুন এক প্রজাতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেশটির কানসু প্রদেশের চ্যাংমা অববাহিকা থেকে উদ্ধার হওয়া এই জীবাশ্ম বিশ্লেষণে গবেষকেরা বলছেন, এটি ডাইনোসরের বিবর্তন ও চলাচল প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে এবং মাইক্রোরেপ্টর নামে পরিচিত পালকযুক্ত শিকারি ডাইনোসরদের বিষয়ে জ্ঞানের পরিধি বাড়াচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জীবাশ্মটির কাঁধ ও সামনের ডানার হাড় প্রায় অক্ষত রয়েছে, যা বিশ্লেষণ করে এটি মাইক্রোরেপ্টরের একটি অজানা প্রজাতি বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে জিয়ান চ্যাংমায়েনসিস। চীনা পৌরাণিক কাহিনিতে এক-ডানার বিশেষ পাখিকে নির্দেশ করে ‘জিয়ান’, যা এই ডাইনোসরের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর ‘চ্যাংমায়েনসিস’ অংশটি রাখা হয়েছে জীবাশ্মের আবিষ্কারস্থল চ্যাংমা অববাহিকার নাম অনুসারে।

গবেষণার ফলাফল একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মাইক্রোরেপ্টরদের ভৌগোলিক বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে। এর আগে উত্তর-পূর্ব চীনের বাইরে এ ধরনের ডাইনোসরের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সাম্প্রতিক মাইক্রোরেপ্টরের জীবাশ্ম, যা নির্দেশ করে এরা ধারণার চেয়েও দীর্ঘ সময় পৃথিবীতে টিকে ছিল।

গবেষণার সহ-লেখক ম্যাট লামান্না জানান, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে চ্যাংমা অববাহিকায় একসময় উড়তে না পারা ডাইনোসরও বাস করত, যদিও অঞ্চলটি প্রধানত প্রাচীন পাখির জীবাশ্মের জন্য পরিচিত। এ পর্যন্ত এখান থেকে শতাধিক পাখির জীবাশ্ম মিললেও উড়তে না পারা ডাইনোসরের নমুনা খুবই বিরল।

গবেষকদের মতে, এই পাখিসদৃশ ডাইনোসরটি স্বল্প দূরত্বে আকাশে ভাসতে বা গ্লাইড করতে পারত। এর পুরো শরীর পালকে আবৃত ছিল এবং সামনের ডানার পাশাপাশি পেছনের পায়েও লম্বা পালক ছিল, ফলে দেখতে চার ডানার মতো মনে হতো। এরা মাটিতে চলাফেরা করলেও গাছে ওঠা এবং এক গাছ থেকে আরেক গাছে ভেসে যাওয়ায় দক্ষ ছিল।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রায় অক্ষত এই জীবাশ্মটি ডাইনোসর থেকে পাখিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া এবং উড্ডয়ন ক্ষমতার বিকাশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন