তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শান্তিরক্ষা মিশনকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাঁদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।”

অনুষ্ঠানে তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে গিয়ে নিহত বাংলাদেশি সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারপ্রধান জানান, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন সদস্য ১০টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন এবং নতুন একটি মিশনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নারী অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “যাঁরা সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।”

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যভিত্তিক অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”

অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের পরিবার ও আহত সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন