আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ০৯:৫৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র, ইরানে ইসরায়েলের পাল্টা হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জেরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার পরপরই এবার ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা রাডারে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। সম্ভাব্য এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়েছে এবং আকাশসীমাতেই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ভূপাতিত করার জোর চেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে মূলত রোববার (৭ জুন)। কার্যকর থাকা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক হামলা চালায়। এই ঘটনায় ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয় এবং ইরান সরাসরি এর প্রতিক্রিয়া দেখায়।

বৈরুতে হামলার তাৎক্ষণিক জবাব হিসেবে রোববার রাতেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে তীব্র মিসাইল হামলা চালায় তেহরান। এ বিষয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক কড়া বিবৃতিতে জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতো কোনো পদক্ষেপ তারা আর মেনে নেবে না। ফিলিস্তিন ও লেবাননের মিত্রদের রক্ষায় এবং চুক্তির বরখেলাপের সরাসরি জবাব হিসেবেই ইসরায়েলে এই মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা স্পষ্ট করে।

ইরানের হামলার পর পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সোমবার (৮ জুন) সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা সামরিক হামলা চালায় ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

লেবানন, ইরান ও ইয়েমেন—একই সঙ্গে তিনটি ভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলের এই বহুমুখী সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন