প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৭:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গল্প এখানেই শেষ নয়। ইমাম খামেনির শাহাদাতের জন্য আপনাদের বড় মূল্য দিতে হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর প্রভাবিত আচরণের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে এনেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এখন ট্রাম্পকে হিসাব করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র কি এখনো সবার আগে, নাকি ইসরাইল?’ এছাড়া তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছেন।
তবে পেন্টাগন এই দাবির প্রমাণ স্বরূপ মাত্র ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে চারজন কুয়েতে নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি হিসাবে, চার দিনের লড়াইয়ে প্রায় ১,০৫০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন স্কুলশিশুর মৃত্যুর খবর ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার লারিজানি বলেন, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’। তিনি উল্লেখ করেছেন, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিল ওমান।
লারিজানি বর্তমানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান। এর আগে তিনি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্তব্য করুন