প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৭:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, সাহারা মরুভূমির ভাইরাল ছবির নেপথ্য সত্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন এক নজিরবিহীন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তাঁর প্রয়াণের আনুষ্ঠানিক খবর, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি—সব মিলিয়ে এক রহস্যময় পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য। তবে সকল গুজবের মূলে থাকা সাহারা মরুভূমির ছবি ঘিরে উদ্ভুত তত্ত্বটিকে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয় খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে সুরক্ষিত অবস্থায় আছেন। তবে নিবিড় তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এই ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়; বরং এটি ২০১৪ সালের একটি পুরনো ছবি। নিছক কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ না থাকায় বিশেষজ্ঞরা এটিকে 'অপপ্রচার' বা 'মিসইনফরমেশন' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গুজব ছাপিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'প্রেস টিভি' খামেনিকে 'শহীদ' হিসেবে অভিহিত করে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে  ইরানে বর্তমানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। শিয়া রীতি অনুযায়ী শোক পালনের উদ্দেশ্যে তেহরানের চত্বরগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে এবং সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। স্যাটেলাইট ডাটা ও সাইবার নজরদারির মাধ্যমে কয়েক মাসের যৌথ গোয়েন্দা তৎপরতার ফল ছিল এই অপারেশন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরান যদি এর পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে আরও বড় ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই খবরের প্রভাব কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। খামেনির মৃত্যুর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইন্টারনেটে ২.৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর তীব্র আঁচ লেগেছে; সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করা এই নেতার বিদায়ে এখন বড় প্রশ্ন, কে বসছেন ক্ষমতার পরবর্তী আসনে? ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এখন 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে ফরেনসিক প্রমাণের অভাব এখনো সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে।

মন্তব্য করুন