প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১২:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে যাদের সঙ্গে ইরানের কার্যকর বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল, এমন একটি দেশ হল চীন। কেউ কেউ এমনও বলেন, ইরানি তেল কেনার মাধ্যমে বেইজিং কার্যত দেশটির সরকারকে টিকিয়ে রাখছিল।
এই প্রেক্ষাপটে চীন একটি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে,
“ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।”
উত্তেজনা কমাতে চলমান হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার কথাও বলেছে তারা।
আলজাজিরা লিখেছে, চীনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের রূপ নিলে জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠবে। আর ওই জ্বালানি বাজারের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল বেইজিং। চীনের উদ্বেগের পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে বেইজিং এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে তারা তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রভাবের বিপরীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য হিসেবে দেখে।
এখন তাদের আশঙ্কা, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হলে বৈশ্বিক জোটের সমীকরণ ওয়াশিংটনের পক্ষে আরো বেশি হেলে যাবে, যা বেইজিংয়ের স্বার্থের অনুকূলে নাও থাকতে পারে।
ইরান চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ। চীন ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানি তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। এই হামলা ও সংঘাত চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের জন্য হুমকি।
বেইজিংয়ের বিবৃতি কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের নাম না নিয়ে ‘হামলা বন্ধ’ ও ‘আলোচনা’র কথা বলেছে। তবে ইরানের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার কথা বলে তেহরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন চায় না মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ। এতে তেলের দাম বেড়ে চীনের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে। একইসঙ্গে ইরান হারালে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঝুঁকে যাবে।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। চীনের এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মন্তব্য করুন