প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১২:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে ইরান। রোববার (১ মার্চ) সকালে অঞ্চলটির বেশ কয়েকটি দেশের রাজধানী ও প্রধান শহরগুলোতে ইরান এই ‘ষষ্ঠ দফার’ হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সিএনএন ও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
রোববার সকালে হামলার শুরুতেই ইসরাইলজুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে দফায় দফায় সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
দুবাইয়ে অবস্থানরত সিএনএন-এর প্রতিনিধিরা স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছেন। বিজনেস বে এলাকার আকাশে একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুবাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর জেবেল আলিতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কাতারের রাজধানী দোহাতেও স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেখানেও সকাল থেকে সতর্ক সংকেত বাজানো হচ্ছে।
ইরাকেও এই হামলার রেশ পৌঁছেছে। দেশটির ইরবিল বিমানবন্দরের কাছে বড় ধরনের আগুনের ছবি পাওয়া গেছে, যেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রোববার সকালে ইরবিলে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধে ইরান এখন ষষ্ঠ দফা হামলা চালাচ্ছে।
আইআরজিসি বলছে, এটি ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণ। ইরানের লক্ষ্য—ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটি। পরিস্থিতি এখন চরম সংবেদনশীল। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন