তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি: সাদিকুল ইসলাম সাদিক

প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ০২:৪৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ছারপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা: কাটছে নির্ঘুম রাত

ছবি: তরুণ কণ্ঠ |

ছোট্ট লাল রঙের এক অদৃশ্য আতঙ্ক, নাম তার ছারপোকা। দিনের আলোয় লুকিয়ে থাকলেও রাত নামলেই শুরু হয় তার তৎপরতা। অন্ধকারের চাদর গাঢ় হতেই মানুষের শরীরই হয়ে ওঠে তার বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। নিঃশব্দে, অদৃশ্য হানায় সে কেড়ে নেয় শান্তির ঘুম। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল জীবনে তাই ছারপোকার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক যেন এক দীর্ঘ দুঃসহ সহাবস্থান, যেখানে আনন্দ নেই আছে কেবল অস্বস্তি, যন্ত্রণা আর নির্ঘুম রাতের দীর্ঘশ্বাস।


এ ছারপোকার লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ যায়নি সরকারি তিতুমীর কলেজ এর ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরাও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছরের জুলাই মাসে উদ্বোধন করা হয় এ ছাত্রাবাস। গ্রামগঞ্জ থেকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করেই এসব আবাসিক সুবিধায় থেকে পড়াশোনা করেন।


বর্তমানে ছারপোকার উপদ্রব এই ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের মানসিক, শারীরিক ও শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক পরিবেশে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। রাত গভীর হতেই যেন শুরু হয় অদৃশ্য এক শত্রুর হানা। দিনের বেলা বিছানা, দেয়ালের ফাঁকফোকর কিংবা আসবাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও অন্ধকার নামতেই তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। মানুষের শরীরের রক্তই তাদের প্রধান খাদ্য। এদের কামড়ে যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চুলকানি, লালচে ফোলা ও তীব্র শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছেন এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।


এ বিষয়ে ছাত্রাবাসে অবস্থানরত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, "একজন শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনাই মূল লক্ষ্য। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে আমার পড়াশোনা তো দূরের কথা, রাতে দুই ঘণ্টা শান্তিতে ঘুমানোও বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে একপ্রকার খুদে দানব—ছারপোকা।" 


তিনি আরও বলেন, "ছাত্রাবাস প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, ছারপোকা নির্মূলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের জন্য তার বসবাসের পরিবেশ অন্তত পরিষ্কার ও শান্তিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।"

এই বিষয়ে ছাত্রাবাসের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক কাজী মোহাম্মদ আল নূর বলেন, আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নিচ্ছি। একটা নোটিশের মাধ্যমে ছাত্রাবাসের সবাইকে জানানো হবে। ঈদের আগে যে শিক্ষার্থী সর্বশেষ তার রুম ত্যাগ করবে, সে আমাদের দায়িত্বরত কোন একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার রুমে স্প্রে করা হবে।

মন্তব্য করুন