তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’: ট্রাইব্যুনালে হাসপাতালের ঘটনার বর্ণনা দিলেন গুলিবিদ্ধ সাক্ষী

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকেরা চিকিৎসকদের শাসিয়ে বলেছিলেন, ‘গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দ্বিসদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি আদালত ও প্রসিকিউশন। ভুক্তভোগী ব্যক্তি রামপুরার মেরাদিয়ায় একটি বাড়িতে দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র-আন্দোলন দেখতে যাই। বাজারে যেতেই বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে ছাত্রদের ওপর গুলি করতে দেখি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা যান এবং আহত হন আরও অনেকে। সবাই রক্তাক্ত ছিলেন। এসব দেখে ভয়ে বাসার দিকে রওনা দিই। তখন পেছন থেকে আমার কোমরের নিচে একটি গুলি লেগে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।’ এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনাল কক্ষে নিজের পরিহিত প্যান্ট খুলে গুলির ক্ষতস্থান বিচারকদের দেখান।

সাক্ষী আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে কিছু লোক তাঁকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি জানান, ১৯ জুলাই চিকিৎসা নিলেও পরদিন রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। কারণ ওই দিন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের লোকজন। তারা বলেছিলেন— ‘এদের গুলি করা হয়েছে মরেনি, এদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’। এরপর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

সাক্ষী বলেন, হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর বাসায় হানা দিয়ে বলে, ‘তুমি গুলি খেয়েছো, এই এলাকায় থাকতে পারবে না।’ তবে এলাকার এক নির্দলীয় ব্যক্তির আশ্রয়ে তিনি রক্ষা পান এবং নিজের জমানো টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি এখন কোনো কাজ করতে পারেন না জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সব দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

নিজে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার জন্য সাক্ষী বিজিবির তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম, পুলিশের এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানকে দায়ী করেন। এ মামলায় চার আসামির মধ্যে রেদোয়ানুল ইসলাম ও রাফাত বিন আলম গ্রেপ্তার হয়ে রয়েছেন। অন্য দুই আসামি পলাতক। প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ানের উপস্থিতিতে আদালত সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

মন্তব্য করুন