আইটি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

১১ বছর পর নাসার ‘মাভেন’ অনুসন্ধানযানের বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

লাল গ্রহ মঙ্গলের কক্ষপথে দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার পর অবশেষে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ঐতিহাসিক ‘মাভেন’ অনুসন্ধানযান অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। গেল বছরের ডিসেম্বরে যানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে নাসা এই সিদ্ধান্ত নেয়। মহাকাশযানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দীর্ঘ ছয় মাস পর নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে বলে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর নাসা শেষবারের মতো ‘মাভেন’ থেকে সংকেত পেয়েছিল। এর পরপরই মহাকাশযানটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে তা উদ্ধারে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি বিশেষ পর্যালোচনা বোর্ড গঠন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধানযানটিকে পুনরায় সক্রিয় করার সম্ভাব্য সব উপায় খতিয়ে দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, যানটি আর কোনো বৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালনা বা পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে সক্ষম নয়।

নাসার গভীর মহাকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গল গ্রহের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার পর যানটি স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষাব্যবস্থায় চলে যায় এবং অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ঘুরতে শুরু করে। এর ফলে এর বিদ্যুৎকোষের সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এই যান্ত্রিক ত্রুটির মূল কারণ উদঘাটনে নাসা এখনও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে উৎক্ষেপিত এই অনুসন্ধানযানটি ২০১৪ সালে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে। প্রাথমিকভাবে এর মূল বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেয়াদ মাত্র এক বছর নির্ধারণ করা হলেও সমস্ত পরিকল্পনা ছাড়িয়ে এটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে নিয়মিত তথ্য পাঠিয়েছে। এটি কেবল স্বাধীনভাবে গবেষণাই করেনি, বরং নাসার ‘মার্স ২০২০’ অভিযানের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করেছে, যার সহায়তায় ‘পার্সিভ্যারেন্স’ নামক অনুসন্ধানী যানটিকে সফলভাবে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছিল।

‘মার্স অ্যাটমোসফিয়ার অ্যান্ড ভোলাটাইল ইভোলিউশন’ বা মাভেন ছিল নাসার প্রথম কোনো অভিযান, যা বিশেষভাবে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ও এর বিবর্তন নিয়ে গবেষণার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে যে, সৌর বায়ু এবং শক্তিশালী সৌর ঝড় প্রতিনিয়ত মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে চলেছে। এই কারণেই এককালের বাসযোগ্য গ্রহটির জলবায়ু আজ এমন ঠাণ্ডা ও শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া প্রোটন কণার কারণে মঙ্গলে সৃষ্ট এক বিশেষ ধরনের মেরুজ্যোতি এবং গ্রহব্যাপী ধূলিঝড়ের কারণে মঙ্গলের পানির অণু মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি বুঝতেও মাভেন বিজ্ঞানীদের দারুণভাবে সাহায্য করেছে।

মন্তব্য করুন