প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজের ‘সানডে’স মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাক্ষাৎকারের মাঝপথে মেজাজ হারিয়ে উঠে চলে যান। গত রোববার প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার রেকর্ড করা সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টেন ওয়েলকার ট্রাম্পকে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন করেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান প্রাইমারি নির্বাচন এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির দাবি নিয়ে তিনি প্রমাণ চাইলে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাক্ষাৎকারের প্রায় ৫০ মিনিট পর তিনি হঠাৎ উঠে চলে যান।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাইমারি নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প যখন কারচুপির অভিযোগ তোলেন, তখন ক্রিস্টেন তাঁর কাছে প্রমাণ চান। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে দেখতে হয়। আর আমি যা শুনি, সেটাও বিবেচনা করি।’
ক্রিস্টেন বলেন, ‘এটা তো কোনো প্রমাণ হতে পারে না।’
ট্রাম্প তখন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে ‘অসাধু’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, এখানেই শেষ করি। যথেষ্ট হয়েছে।’
সাক্ষাৎকার চলাকালে ইরানে চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প বলেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এই সংঘাত কখনোই ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ পরিণত হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেখানে (ইরান) কয়েক মাসের জন্য ছিলাম। এখন হুমকি অনেকটাই কেটেছে।’
এ ছাড়া ‘অ্যান্টি–ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে দাঙ্গার ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির দাবি করলে ক্রিস্টেন তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘চার দিন পরও ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। প্রাথমিক বাছাইয়ে কারচুপি করা হচ্ছে।’
ক্রিস্টেন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি?’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে যেসব কাজ করতে হয়, তা হলো—দেখা এবং শোনা।’
ক্রিস্টেন বলেন, ‘এটা কোনো প্রমাণ হতে পারে না।’
তখন ট্রাম্প ক্রিস্টেনের উদ্দেশে বলেন, ‘ওরা অসৎ। যেমন আপনিও।’ পরে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি হয় অসৎ, নয়তো নির্বোধ।’
ক্রিস্টেন জবাব দেন, ‘সত্যি বলতে, আমি মোটেও অসৎ নই। চলুন, আমরা কথোপকথনটা এগিয়ে নিই।’
শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন, এখানেই শেষ করি। যথেষ্ট হয়েছে। ধন্যবাদ প্রিয়, আপনার সময় ভালো কাটুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি অসৎ সংবাদমাধ্যম নিয়ে কোনো দেশ মহান হতে পারে না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। তিনি প্রায়ই এসব মাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ করে আসছেন। এনবিসির এই ঘটনায় হোয়াইট হাউসের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন