প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬, ১১:২৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার আলামত পরীক্ষায় এক দশক পর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাকে তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরীক্ষাগার বিশেষজ্ঞরা। রোববার রাতে এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যদিও ল্যাব টেস্টের ফলাফল এসেছে প্রায় এক মাস আগে।
মামলাটির বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তনুর পোশাকে তিনজনের শুক্রাণু ছাড়াও আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।’ এর আগে ২০১৭ সালে তনুর পোশাকে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া গিয়েছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে আসছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের ২০ মার্চ। সেদিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে এক জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি শুরুতে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং এরপর সিআইডি দীর্ঘদিন তদন্ত করেও কোনো সফল সূত্র বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় চার বছর ধরে মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। নতুন এই রক্তের অস্তিত্বের প্রমাণ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন