গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩৫ মিনিট আগে, ০৩:৩৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরে গৃহস্থের ৩টি গরু চুরি, উদ্ধারের বদলে ভুক্তভোগীকেই সাজানো মামলায় ফাসানোর অভিযোগ

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন জাঝর এলাকায় বসতঘরের তালা কেটে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি গবাদিপশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

গত (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহর গোয়ালঘরের তালা কেটে একটি ষাঁড়, একটি গর্ভবতী গাভী ও একটি বাছুর পিকআপে করে নিয়ে যায় ৫/৬ জনের একদল চোর। 

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেশী মাদক ব্যবসায়ী মানিককে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

তবে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার এবং চোরকে আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে পুরো ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। উল্টো ভুক্তভোগী গৃহস্থ ও তার প্রতিবেশীদের নামেই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

গরুর মালিক হাবিবুল্লাহ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে প্রতিবেশী মানিককে শনাক্ত করার পর তার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সদস্য আজাদুর রহমান বাবুলকে অবহিত করা হলে তিনি চোরকে মারধর করতে বলেন এবং তার পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমির দলিল ও ব্যাংকের চেক রেখে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। 

এমনকি তিনি গাছা থানার ওসির সাথে কথা বলে সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তা না করে উল্টো চোরকে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা মামলা করিয়ে দেন। সেই মামলায় আমি ও আমার ছেলে জেল খেটে বের হয়েছি। আমি আমার গরু উদ্ধার ও এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।

এদিকে চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এবং সন্দেহভাজনের বাড়িতে অনুসন্ধানে গিয়ে অযথা হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন জাঝর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর মামুন ও তার ভাতিজা মোঃ ইমরান হোসেন।

মামলায় অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত মো.জাহাঙ্গীর মামুন জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে গরু চুরির খবর পেয়ে তিনি ও তার ভাতিজা ইমরান ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহর বাড়িতে যান। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন মানিকের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চলে আসেন। কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর গাছা থানায় দায়ের করা মামলায় (মামলা নং-৯) তার ভাতিজা ইমরানকে ১ নম্বর এবং তাকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।

জাহাঙ্গীর মামুন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে চোরকে মারধর, জমির দলিল ও ব্যাংক চেক ছিনিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিতই ছিলাম না। 

তিনি আরও বলেন , আমাদের কাছে সঠিক তথ্য রয়েছে গাজীপুর জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সদস্য আখতারুজ্জামান বাবুল
,গাছা থানা শ্রমিকদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, হাজী মুজিবুর রহমান এবং
মো.সিফাত মিয়া এই জোরপূর্বক দলিল ও চেক নেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত। 
আমরা এই সাজানো মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি ও নির্দোষদের অব্যাহতির আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সদস্য আখতারুজ্জামান বাবুল জানান , আমি অসুস্থ ছিলাম এজন্য সঠিকভাবে বিচার করতে পারি নাই। দুই পক্ষকে মিলে আসতে বলেছিলাম । পরবর্তী থানার বিচার হওয়ার কথা ছিলো। 

এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী জানান, আইন হাতে তুলে নিয়ে তারা গরু চুরির অভিযোগে তাকে বাসা ধরে এসে বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন