কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫০ মিনিট আগে, ০১:৩৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘ছাত্রীদের ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে পুলিশে দেওয়া কুমিল্লার সেই শিক্ষিকা বদলি, শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগীরা

ছবি: সংগৃহীত

‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ৩ হলের ছাত্রীদের পুলিশে দেওয়া সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বদলি হয়েছেন। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নিলুফার সুলতানার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনবার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক পরিষদের নেতা হয়েছেন। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য।

বিভিন্ন উন্নয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাতের দুদকের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার সাহার প্রধান সহযোগী ও শিক্ষক পরিষদের নেতা।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর কাছে ডাঃ জাকির নায়কের লেকচার সমগ্র ও ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে নিলুফার সুলতানা।

জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় প্রায় এক দশক ধরে চলমান থাকে আদালত, এ সময় জামিন ও সামাজিক কলঙ্কের ভার বয়ে বেড়াতে হয়েছে তিন কলেজছাত্রীকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ মে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাঁদের খালাস দেন। ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী ও মামলার নথিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তিনজন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্রী, ফয়জুন্নেসা হলের বাসিন্দা এড. কানিজ ফারহানা বাতুল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক ছাত্রী ও ফয়জুন্নেসা হলের বাসিন্দা আরজিনা আক্তার চম্পা ও সালমা আক্তার।

নিলুফার সুলতানার বিচার দাবি করে তাঁরা বলেন, ‘নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিন ধরে মামলাটি চলমান ছিল। এ সময়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এখন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটির নাম দেওয়া হোক ‘আজীবন তদন্ত কমিটি’। বর্তমান অধ্যক্ষও আমাদের তদন্ত কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম জানাননি। নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা থেকে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?’

জঙ্গি নাটকের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল মেসেজে করেও অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? ভাগ্য ভালো, সরকার পরিবর্তনের কারণে, তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই, জঙ্গিবাদের বই নয়।’

অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার এসব বিষয়ে কলেজ প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেননি অধ্যক্ষ। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই মধ্যরাতে কলেজের নবাব ফয়জুন্নেসা হল থেকে তিন ছাত্রীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন তৎকালীন হলের সহকারী প্রভোস্ট নিলুফার সুলতানা। ডাঃ জাকির নায়কের লেকচার সমগ্র ও ধর্মীয় বই পড়ার টেবিলে রাখায় তিন ছাত্রীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় দেখানো হয়। এক দশক আইনি লড়াই শেষে ২০২৬ সালের মে মাসে এ মামলাটি মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হয়।

মন্তব্য করুন