তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৬:২৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তেলের বাজার আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি, সে বিবেচনায় দাম বাড়ানো ঠিক: উপদেষ্টা জাহেদ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও এ পরিস্থিতি স্থায়ী হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, সামনে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সে বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গত দুই-তিন দিনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে এই পতন স্থায়ী হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকায় সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে এবং শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে এ লোকসানের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। তবে দাম বাড়ানোর পরও ডিজেলে সরকারের ভর্তুকি থাকবে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা স্থায়ী না হলে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। তাঁর মতে, দাম কমলেও দেশে ডিজেলে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন থাকছে।

বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং দেশটির বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থার ওপরও বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন জাহেদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা না করার অনুরোধ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে সরকারকে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির বরাদ্দ থাকলেও অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়ে গেছে।

বর্তমান গতিতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকলে বছর শেষে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তাঁর ভাষ্য, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে ভর্তুকির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও সরকারের ব্যয় রয়েছে। সব খাতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন। তাই বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য করতে হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনগণের কষ্ট হবে—এ কথা স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার পরিবহন খাতে যৌক্তিক ভাড়া সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ও ওএমএসের আওতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব সহায়তা কর্মসূচি আরও বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভিন্নমত ও সমালোচনা থাকতেই পারে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত সবাইকে সন্তুষ্ট করবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর নেই।

মন্তব্য করুন