প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৬:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়ক হবে। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদাকে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাকছুদার রিমান্ড শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মরিয়মের সঙ্গে গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম তাঁর স্বামী ও সতীন মাকছুদার সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় বসবাস করছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে তাঁর স্বামী ও সতীন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করে। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিমও কক্ষ থেকে চিরকুট উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছেন।
এজাহারে চিরকুটের বরাত দিয়ে মরিয়মের লেখা হিসেবে কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা ও মামলায় এর আইনগত গুরুত্ব তদন্তের বিষয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুন ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এরপর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কার করে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। আদালতের আদেশ ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে মামলাটির পরবর্তী আইনি কার্যক্রম।
মন্তব্য করুন