প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৯:৩২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরব ২৬টি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার হুথিরা দাবি করে, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০-তে পৌঁছেছে। এসব হামলায় হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানায় তারা।
অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হাতে ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে যেসব এলাকায় লড়াই বেড়েছে, ওই এলাকাটি তার অন্যতম।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে হুথিদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। একই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় বড় একটি অংশে, যার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিল বলে দুই পক্ষের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তায়েফ প্রদেশে হুথিদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে।
ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও কূটনৈতিকভাবে যুক্ত হয়েছে। হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের কারণে বাব-এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন কর্মকর্তারা হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানা গেছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে না।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ব্যস্ত থাকায় নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে তারা সতর্ক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবার জানান, লোহিত সাগরে ইইউর নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’ সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। অঞ্চলটির পরিস্থিতির আরও অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কালাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন