প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:১৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
তেলেগু, কন্নড়, তামিল ও হিন্দি—একাধিক ভাষার ছবিতে নিয়মিত কাজ করছেন রাশমিকা মান্দানা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউডে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তবে বহুভাষিক এই ক্যারিয়ারের কারণে বিভিন্ন ছবিতে তাঁর উচ্চারণ ও ভাষা বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের মুখেও পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে।
এবার সেই সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশমিকা। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন। বরং বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে করতে প্রতিটি ভাষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ভিন্ন ভাষার দর্শকের সঙ্গে তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করাকে তিনি দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোর একটি উপায় হিসেবে দেখেন।
রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় বড় কোনো চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তাঁকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে।
২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় রাশমিকার। পরে তেলেগু সিনেমায় জনপ্রিয়তা পান। এরপর হিন্দি ও তামিল ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’ ও ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো ছবির মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে। পরে ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’ ছবির পর হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর পরিচিতি বিস্তৃত হয়।
এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশমিকা জানিয়েছেন, কোনো একটি ভাষাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর ক্যারিয়ার তৈরি হয়নি। কাজের সুযোগ এবং দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেছে।
অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা মনে করেন এবং ভিন্ন ভাষার দর্শকের সঙ্গে তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে এটি শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়।
উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে রাশমিকা নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো ভাষাতেই ‘খুব ভালো’ নন। তিনি অনেক ভাষা জানেন এবং বিভিন্ন ভাষায় কাজ করেন, কিন্তু কোনো একটি ভাষায় নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি করেন না।
একাধিক ভাষায় কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণে শতভাগ নিখুঁত হওয়া সব সময় সম্ভব নয়—রাশমিকার বক্তব্যের সারকথা এমনই। তাঁর কাছে ভাষা শেখার চেষ্টা, কাজের প্রতি আগ্রহ এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চারণ নিয়ে নানা মন্তব্য ও ট্রল হলেও এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না রাশমিকা। তাঁর মতে, সিনেমা মূলত একটি দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেন; তবে একটি ছবির চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।
বর্তমানে রাশমিকার হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় কাজ। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। বিয়ের পর প্রথমবার জুটি হিসেবে পর্দায় দেখা যাবে তাঁদের। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি ছবির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী।
মন্তব্য করুন