প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। তবে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন ডলার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। ডলারের মূল্য শক্তিশালী হলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের ওঠানামা তেলের দামের গতিপথ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারের কাঠামোগত চালিকাশক্তিগুলো এখনো শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদহার বেশি থাকলে সুদ থেকে আয় করা সম্পদের আকর্ষণ বাড়তে পারে। ফলে সুদ না দেওয়া সোনায় বিনিয়োগের আগ্রহ কমার চাপ তৈরি হয়।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নীতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিনির্ধারণী সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বছরের শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়িয়েছে।
বস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি থাকায় গত সপ্তাহে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছেন। তবে চলতি বছর সুদহার নির্ধারণকারী ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ভোটাধিকার না থাকা কলিন্স ভবিষ্যতে আবার সুদহার বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন কি না, তা জানাননি।
সোনার বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সময়ে জাতিসংঘে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগির একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণত নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালে সোনার গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলার থাকবে—এমন পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাঁদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত সোনা কেনার কারণে দাম ৩ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে।
মন্তব্য করুন