তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গণঅভ্যুত্থানের পর পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলমান

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর যেসব পুলিশ সদস্য কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসেননি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই তথ্য জানান।

বিভাগীয় মামলার অগ্রগতি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "যাদের কথা আপনারা ইশারা-ইংগিতে বলছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। অনেকগুলো রুজু করা হয়েছে। সেগুলো চলমান রয়েছে, কারোটা হয়তো শেষের পর্যায়ে রয়েছে।"

তিনি আরও জানান যে পলাতক পুলিশ সদস্যদের অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি আইসিটি আইনে এবং সাধারণ দণ্ড আইনে মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, "তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আইসিটিতে মামলা আছে, পেনাল কোর্টে মামলা আছে; যে মামলাগুলোতে তারা আইন মাফিক বিচারের সম্মুখীন হবেন, সেটা আদালত দেখবে।"

তবে মন্ত্রীর মতে বিভাগীয় মামলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা আরও স্পষ্ট হবে যখন সেই মামলাগুলো সম্পন্ন হবে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য কাজে পুরস্কৃত ১৫ পুলিশ সদস্য

সোমবার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনটি উল্লেখযোগ্য অপরাধ সমাধানে ভূমিকা রাখায় মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সনদপত্র এবং ২০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হয়েছে।

শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদানের জন্য পল্লবী থানার ৯ জন পুলিশ সদস্য পুরস্কার পেয়েছেন। দৌলতদিয়া ঘাটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় যেখানে পুলিশ বাস থেকে অর্ধশত যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছিল সেই কাজে ৩ জন নৌপুলিশ সদস্য পুরস্কৃত হয়েছেন। মুন্সিগঞ্জে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দ্রুত আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য ৩ জন বিশেষ শাখার পুলিশ সদস্য এই সম্মাননা লাভ করেছেন।

টিআইবির প্রতিবেদন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া

স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক সংস্থা (টিআইবি) রোববার বিএনপি সরকারের প্রথম একশত দিনের কর্মকাণ্ডের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে 'সুশাসন ও নিরাপত্তা' বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।"

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, "এই প্রতিবেদনটি আমার সামনে নেই। আমরা মাস ভিত্তিতে একটা পরিসংখ্যান করি। আমাদের বছর হয়নি। ২০২৫ সালের মাসিক তুলনায় আমাদের সময় অনেক উন্নত হয়েছে। অনেক অপরাধ কম।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "টিআইবি তো সরকারি সংস্থা নয়; আপনারা পরিসংখ্যান নিবেন পুলিশ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। আপনারই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে। আর টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কার্টিং থেকে। টিআইবি কোনো তদন্ত করেনা।"

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও মন্তব্য করে বলেন, "টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে কোনো বিবৃতি দেয় না। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রত্যেকটি ঘটনা যে সঠিক—সেটা বলা যাবে না। তবে প্রত্রিকার প্রকাশিত খবরগুলো যথাযথ যাচাই করার ব্যবস্থা করা হয়।" তিনি এই সূত্রে উল্লেখ করেন, "আমরা এই পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে মনে হয়।"

 

মন্তব্য করুন