স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চোট, সমালোচনা আর ১১৪ ম্যাচ মিস: বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে শেষ লড়াই নেইমারের

ছবি: সংগৃহীত

নেইমারকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জল্পনার ইতি ঘটছে আজ। সোমবার রাত ২টায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু দল ঘোষণার ঠিক আগের রাতেই ‘কমেডি অব এরর’-এর জন্ম দিয়ে সাও পাওলোতে কোরিবিতার বিপক্ষে ম্যাচে দুর্ঘটনাবশত বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। শেষ ৩৫ মিনিট খেলতে না পারার আফসোস সঙ্গী করেই এখন নেইমার তাকিয়ে থাকবেন আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের দিকে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ভঙ্গুর গল্পটিই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর কঠিন সময় পেরিয়েছেন নেইমার। একের পর এক চোট, ক্লাব বদল, সমালোচনা—সবকিছুর ভিড়ে নিজেকে তৈরি করেছিলেন বিশ্বকাপের জন্যই। কিন্তু গতকাল রাত পর্যন্তও নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে নিজেকে প্রমাণ করা নিয়েই খোলামেলা নেইমার বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি এখন খুব ভালো অনুভব করছি। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে আমি উন্নতি করেছি। নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যাপারটা সহজ ছিল না। সত্যি বলতে, একদমই সহজ ছিল না। অনেক বছরের কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমার শারীরিক অবস্থা আর আমি কী করছি, তা নিয়ে অনেক ভুল কথাও শুনতে হয়েছে।’

চার বছরের লড়াইটা আসলে সংখ্যাতেও ভয়াবহ। ২০২২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১ বার চোটে পড়েছেন নেইমার, ৮০৭ দিন মাঠের বাইরে কাটিয়ে মিস করেছেন ১১৪টি ম্যাচ। চলতি মৌসুমে ১৫ ম্যাচে ৬ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি, আগের মৌসুমে করেছিলেন ১১ গোল। তবে সংখ্যা নয়, চোটমুক্ত থাকার নিশ্চয়তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সমালোচনা প্রসঙ্গে নেইমার স্বীকার করেন, ‘মানুষ যেভাবে এসব নিয়ে কথা বলেছে, সেটা খুব কষ্ট দিয়েছে। আমি চুপচাপ বাসায় থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছি। মানুষের কথায় কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়েছে। আমি সুস্থ অবস্থায় সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি, যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত নিজের পারফরম্যান্স আর যা করেছি, তাতে আমি খুশি। আগামীকাল (আজ) কী হবে, সেটা সৃষ্টিকর্তাই জানেন।’

আনচেলত্তির পরিকল্পনায় জায়গা করে নেওয়ার পথে কিছুটা সুবিধা এই যে, চোটের কারণে রদ্রিগো ও এস্তেভাও ছিটকে পড়েছেন। ফলে আক্রমণভাগের ঘাটতি মেটাতে নেইমার বড় সমাধান হতে পারেন। তবে দলে থাকা না-থাকার চূড়ান্ত ভারসাম্যটা দাঁড়িয়ে আছে ফিটনেসের ওপর। ফিট থাকলে নেইমারকে বাদ দেওয়ার সাহস কোনো কোচই দেখাতে পারেন না—কথাটি আনচেলত্তিও বলেছেন। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা আজও মেলেনি। আজ রাতের ঘোষণাই বলে দেবে, ব্রাজিলের জার্সিতে ফের দেখা যাবে কি না নeyমারকে।

মন্তব্য করুন