স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৪৮ দলের বৃহত্তম বিশ্বকাপ: ভাঙার অপেক্ষায় যে ৫টি পুরোনো রেকর্ড

মাত্র ৬ দিন পর পর্দা উঠতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো ৩২টির বদলে ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই মেগা আসরে ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। যুক্ত হয়েছে 'রাউন্ড অব ৩২' বা ৩২ দলের নতুন নকআউট পর্ব। টুর্নামেন্টের পরিধি ও ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে এবার ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এবারের আসরে বিশ্বকাপের দীর্ঘস্থায়ী যে পাঁচটি রেকর্ড ভাঙার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, চলুন তার একটি বিশ্লেষণ দেখা যাক।

১. কোচ হিসেবে সর্বাধিক জয়ের হাতছানি

বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি বর্তমানে জার্মানির কিংবদন্তি হেলমুট শনের দখলে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে ১৬টি জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। তার অধীনে দলটি একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্সআপ এবং একবার তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

তবে এবার ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম এই রেকর্ড ভাঙার একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। ফ্রান্সের হয়ে ১৯টি ম্যাচে ১৪টি জয় পাওয়া দেশমের দল এবার গ্রুপ পর্বে নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাকের মোকাবিলা করবে। প্রত্যাশামাফিক অন্তত দুটি ম্যাচ জিতলেই শনের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনি। আর শেষ বত্রিশে একটি জয় তাকে বানিয়ে দেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ম্যাচজয়ী কোচ।

২. এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের সম্ভাব্য রেকর্ড

কাতার বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচে রেকর্ড ১৭২টি গোল হয়েছিল, যেখানে ম্যাচপ্রতি গড় গোল ছিল ২.৬৯। এবার ম্যাচের সংখ্যা ১০৪টি হওয়ায় মোট গোলের রেকর্ড ভাঙা সময়ের ব্যাপার মাত্র। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের মতো ইতিহাসের সবচেয়ে রক্ষণাত্মক ও কম গোলের আসরের গড় (২.২১) বজায় থাকলেও এবারের আসরে মোট গোলসংখ্যা ২৩০ ছাড়িয়ে যাবে।

৩. চল্লিশোর্ধ্ব ফুটবলারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি

ইতিহাসের গত ২২টি আসর মিলিয়ে বিশ্বকাপে চল্লিশ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় দেখা গেছে মাত্র ৭ জন। কিন্তু এবারের আসরে একাই আটজন চল্লিশোর্ধ্ব ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন:

  • স্কটল্যান্ডের ক্রেইগ গর্ডন (৪৩)

  • পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১)

  • জার্মানির মানুয়েল নয়ার (৪০)

  • বসনিয়ার এদিন জেকো (৪০)

  • ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ (৪০)

  • উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা (৪০)

  • মেক্সিকোর গুইলের্মো ওচোয়া (৪০)

এই দীর্ঘ তালিকার খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্তত দুজনও যদি এক মিনিটের জন্য মাঠে নামার সুযোগ পান, তবেই এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চল্লিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় খেলার নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।

৪. সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট বদলের সম্ভাবনা

বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬টি গোলের রেকর্ডটি এবার তীব্র হুমকির মুখে। এই রেকর্ডের প্রধান দুই দাবিদার হলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (১৩ গোল) এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২ গোল)। ৩৯ বছর বয়সী মেসি ও ২৮ বছর বয়সী এমবাপ্পে গত আসরে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। গত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে (৮ গোল) এবং টুর্নামেন্ট সেরা মেসি (৭ গোল) এবার তার অর্ধেক গোল পেলেও ক্লোসার রেকর্ডটি ভেঙে যেতে পারে। এই তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, হ্যারি কেইন ও নেইমারের ৮টি করে গোল থাকলেও তারা শীর্ষস্থান থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন।

৫. সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট ও বল বিজয়ীর খোঁজ

২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র ২০ বছর বয়সে ৫টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন জার্মানির টমাস মুলার। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালে ২১ বছর বয়সে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জিতেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো।

এবার এই তরুণদের আধিপত্যের রেকর্ডগুলো কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে কয়েকজন বিস্ময়বালকের সামনে। স্পেনের ২০২৪ ইউরো জয়ে বড় ভূমিকা রাখা ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল রয়েছেন এই তালিকার শীর্ষে। ইয়ামাল ছাড়াও জার্মানির ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লেনার্ট কার্ল এবং ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এনদ্রিকের সামনে সুযোগ থাকছে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলো নিজেদের করে নেওয়ার।

মন্তব্য করুন