প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ১১:২৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সিলেটের দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গিয়ে তিন মাসের ব্যবধানে পানিতে ডুবে প্রাণ হারালেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আরও এক শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিলেটের বিছানাকান্দি সীমান্তবর্তী জলাশয়ে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি লালাখালে একইভাবে গোসল করতে নেমে আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ক্ষত এখনও শুকায়নি ক্যাম্পাসে।
নিহত সর্বশেষ শিকার পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত বণিক। ২২ বছর বয়সী শান্তর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুই বন্ধুসহ বিছানাকান্দির নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন এক জলাশয়ে গোসল নামেন তিনি। একপর্যায়ে স্রোত ও গভীরতায় তলিয়ে যান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও ব্যর্থ হন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পৌঁছে দীর্ঘ অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ৩০ জানুয়ারি লালাখালে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে গোসলে নেমে মারা যান ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুসআব আমীন। জানা গেছে, শান্ত ও মুসআব দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। মুসআব সাঁতার না জানলেও শান্ত সাঁতার জানতেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অথচ উভয়েই জলের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেলেন।
এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে এসেছে শোকের গাঢ় ছায়া। ক্যাম্পাসের একাধিক শিক্ষক তাদের সমবেদনায় বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য ভবিষ্যত দুইজন প্রকৌশলীর বিদায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তাদেরকে নিয়ে বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। মানুষের জন্ম হলে মৃত্যু অনিবার্য। তবে কিছু মৃত্যু অপ্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীদেরকে আরো সচেতন হওয়া দরকার।’
শান্তর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শান্ত বণিকের মৃত্যু শাবিপ্রবি পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সে ছিল একজন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী। তাঁর এই অপ্রত্যাশিত প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।’ উপাচার্য নিহতের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি সব শিক্ষার্থীকে এ ধরনের পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন