স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

লিটনের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে লড়াই বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের শুরুটা ছিল ধসের, শেষটা লিটন দাসের অসম্ভব দৃঢ়তায় লড়াইয়ের। শীর্ষসারির ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ�্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। তার ১২৬ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক দল।

শনিবার সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। দলীয় ৪৪ রানে বিদায় নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, যিনি অভিষেক টেস্টে ৩৪ বলে ২৬ রান করে সম্ভাবনা জাগিয়েও থামেন। এরপর গুটিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। ঢাকা টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক সৌরভ ২২, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ২৩ এবং ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে তখন নাজুক অবস্থায় বাংলাদেশ।

ঠিক সেখান থেকেই শুরু লিটনের একক প্রতিরোধ। সপ্তম উইকেটে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৬০ রানের জুটি। তাইজুল ৪০ বলে ১৬ রান করে বিদায় নিলে পেসার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে যোগ করেন আরও ৩৮ রান। এরপর শরীফুল ইসলামের সঙ্গে নবম উইকেটে ৬৬ রানের অনবদ্য এক জুটি উপহার দেন লিটন। দলকে তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পথে হাসান আলীর বাউন্সারে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে থামতে হয় তাকে। তার আগে ১৫৯ বলে ১৬টি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো ১২৬ রানের ইনিংসে তিনি একাই দলকে দিয়েছেন সম্মানজনক একটি স্কোর।

এটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি। ৫৪ টেস্টের পাশাপাশি ১০১ ওয়ানডেতে তার সেঞ্চুরি সংখ্যা পাঁচটি। লিটন আউট হওয়ার পরপরই নাহিদ রানা কোনো রান যোগ না করেই বিদায় নিলে ২৭৮ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ ৪টি ও মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট নেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লিটনের এই লড়াকু সেঞ্চুরিই এখন বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকে থাকার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

মন্তব্য করুন