তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মেটা মামলায় হারলে বদলে যাবে ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুক

তরুণ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরির অভিযোগে একাধিক মামলায় আইনি চাপে থাকা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ জুরি ট্রায়াল শুরু হচ্ছে, যা কোম্পানিটির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই মামলায় পরাজিত হলে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ব্যবহার-পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হতে পারে প্রতিষ্ঠানটিকে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শুরু হতে যাওয়া এই মামলাটি ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্য দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশু ও কিশোরদের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন করেছে মেটা।

অঙ্গরাজ্যগুলো মামলায় মেটার কাছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার পরিবর্তনেরও দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করা, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা বাতিল, ভিডিওর অটোপ্লে বন্ধ এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অভিভাবক যাচাই বাধ্যতামূলক করা।

এ ছাড়া সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমে পরিবর্তন, একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ সীমিত করা এবং ‘স্টোরিজ’-এর মতো নির্দিষ্ট সময় পর মুছে যায় এমন পোস্ট ব্যবস্থাও বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, এসব ফিচার এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করেন এবং বারবার ফিরে আসেন।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণদের প্ল্যাটফর্মে আসক্ত করতে ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠানোর মতো কৌশল ব্যবহার করেছে মেটা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়ানো ও ব্যবসা সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, অভিযোগগুলোর সঙ্গে তারা একমত নন এবং তরুণদের সহায়তায় তাদের দীর্ঘদিনের উদ্যোগ আদালতে প্রমাণিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটির শুনানি হবে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান ফেডারেল বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্সের আদালতে। এর আগে বহুল আলোচিত ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের মামলাও তার আদালতে শুনানি হয়েছিল।

এদিকে নিউ মেক্সিকোয় মেটার বিরুদ্ধে আরেক মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড প্রতিষ্ঠানটিকে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন এবং কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা বন্ধ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিফিকেশন সীমিত করা।

বিচারক বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘জনদুর্ভোগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোকে এমন এক কারখানার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দূষণ ছড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মামলায় ৩০টি অঙ্গরাজ্য জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেটার প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এসব অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হওয়ায় এর প্রভাব ব্যাপক হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘লাইক’ সংখ্যার মতো এনগেজমেন্ট মেট্রিক কিশোরদের মধ্যে সামাজিক তুলনা, একাকিত্ব ও নেতিবাচক মানসিক প্রভাব বাড়াতে পারে। মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষণাতেও এ ধরনের প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ফলে মামলায় মেটা পরাজিত হলে শুধু বড় অঙ্কের জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ফিচার ও অ্যালগরিদমেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আমূল বদলে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন