প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৭:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে সেটি জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোজে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং বাকি ১০০ জনের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধন ফি রাখা হয় ১৫ টাকা।
শুক্রবার রাতে ভোজের ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ১৫ আগস্টের এ আয়োজনে যে গরুটি আনা হয়েছে, সেটির নাম ‘বাকশাল’। গরুটি কোরবানি করে ‘জুলাই জিয়াফত’ বা ‘জুলাইয়ের আপ্যায়ন’ হিসেবে আয়োজনটি করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মধ্যরাতে দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টেও গরুটির নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আম্মার।
এদিকে শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকসুর পক্ষ থেকে এ জিয়াফতের আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে আয়োজনটির সঙ্গে রাকসুর সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে আয়োজনটির প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এতে একমত ছিলেন না। পরে একজন শিক্ষার্থী গরুটি উপহার দিয়েছেন। তাই এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসু জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ১৫ আগস্টকে তিনি বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এ আয়োজনের সমালোচনা করেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল। তাঁর অভিযোগ, আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন ‘সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ’। শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম রাকসুর ব্যানারে এমন আয়োজন করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফুয়াদ রাতুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে রাকসুর নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এ আয়োজনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল। পরে এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলা হলেও শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
অন্যদিকে আয়োজনের সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, রাকসু জিএসের এ আয়োজন বা অন্য কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে ছাত্রশিবির জড়িত নয়।
মুজাহিদ ফয়সালের দাবি, সালাহউদ্দিন আম্মার অতীতে যেসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছেন, সেগুলোর সঙ্গেও ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর কর্মকাণ্ডকে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন