তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৩:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

খুলনার রূপসা উপজেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। শ্রীরামপুরে অবস্থিত রূপসা ব্রিকস নামক একটি ইট ভাটায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ফখরুল শেখ (৩২) নামের এক যুবদল নেতাকে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ফখরুল উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলা যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই।

জানা গেছে, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল দীর্ঘদিন ধরে রূপসা ব্রিকস ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের নিয়মমতো ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনার জন্য মঙ্গলবার রাতে সেখানে যান ফখরুল। তবে এর আগে ওইদিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সঙ্গে তার একটি বাগবিতণ্ডা হয়েছিল, যার জেরে তৈয়ব রাতে তার নির্ধারিত ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে ভাটায় অবস্থানকালে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ভাটার অফিস রুমের পাশে একদল অস্ত্রধারী আকস্মিকভাবে ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। এতে একটি গুলি তার ঘাড়ে বিদ্ধ হয়, আর আরেকটি গুলি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা পরিবারের সদস্যরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাই ফরহাদসহ আরও তিন ভাই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন বুধবার সকালে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন, তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফরহাদ বলেন, 'আমার ভাই ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলের নেতা হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার ভাটার ক্যানেলে ও মাছ চাষ করতো। রাতে ওর মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় ওর সাথে দেখা হলে আমাকে জানায় ওষুধ নিয়ে ভাটা থেকে ঘুরে বাড়ি ফিরবে।'

তিনি আরও বলেন, 'রাত ১২টা ১১ মিনিটে ওর বন্ধু আমাকে ফোন করে বলে ভাই ফখরুলকে কারা যেন মারছে আপনি দ্রুত আসেন। খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি অফিসের পাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে।'

এ বিষয়ে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে থানা পুলিশ। লাশের সুরতহালে দেখা যায় তার শরীরে দুইটা গুলি লেগেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ময়না তদন্ত শেষে দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গভীর রাতে তার ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন