নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৩:৩০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ৭ ধরনের মামলা মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তির সুযোগ

মামলা নিষ্পত্তিতে সময় ও খরচ কমাতে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে সাত ধরনের মামলায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর সুযোগ চালু হয়েছে। প্রধান বিচারপতির অনুমোদনের পর এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আল ইমরান খান স্বাক্ষরিত সার্কুলার অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি আইনের আওতাভুক্ত মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর, বিশেষ করে মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

আইনগুলো হলো পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩; পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০; দণ্ডবিধি, ১৮৬০; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম জানান, লিগ্যাল এইডে মামলা দায়েরের আগে ও পরে দুই ধরনের মধ্যস্থতার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে বর্তমানে শুধু মামলা দায়েরের পর অর্থাৎ পোস্ট-কেস মিডিয়েশনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, গুরুতর বা কগনিজেবল অপরাধ এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে না। মূলত পারিবারিক বিরোধ, সাধারণ মারামারি এবং তুলনামূলক ছোটখাটো মামলায় মধ্যস্থতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

যেসব পারিবারিক মামলা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, খোরপোষ এবং শিশুসন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত-সংক্রান্ত মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা যাবে।

ইমতিয়াজুল ইসলাম বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি সংসার টিকে গেলে সেটি ইতিবাচক ফল। দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সমঝোতার মাধ্যমে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা সম্ভব।

দেনমোহর বা পাওনা অর্থ আদায়ের বিষয়েও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যাবে।

বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর আওতাধীন মামলাও মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তির সুযোগ পাবে। কোনো সন্তান বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ না করলে তার বিরুদ্ধে করা মামলা আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্টে এলে আদালত চাইলে সেটি লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারবেন।

দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে লিগ্যাল এইড অফিস আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে। তবে লিগ্যাল এইড নিজে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করবে না। সমঝোতা হোক বা না হোক, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে এবং আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা

যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারার মামলাও মধ্যস্থতার আওতায় রয়েছে।

তবে হত্যা, ধর্ষণ বা দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারার মতো গুরুতর ও আপস-অযোগ্য অপরাধ এ ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।

দণ্ডবিধির যেসব মামলা

সার্কুলারে দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারার মামলাকে মধ্যস্থতার আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেআইনি সমাবেশ, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, গৃহে অনধিকার প্রবেশ, স্বেচ্ছায় আঘাত, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং গুরুতর আঘাতের মামলা।

এ ছাড়া নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে আক্রমণ, চুরি, বাসগৃহে চুরি, কর্মচারী বা ভৃত্যের চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আদায়, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনর্বিবাহ, মানহানি এবং মানহানিকর বিষয় মুদ্রণ বা খোদাইয়ের মামলাও এ ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে।

অপরাধ করার চেষ্টার মামলাও নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে মধ্যস্থতার আওতায় আসতে পারে।

দেওয়ানি ও চেক ডিজঅনারের মামলা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর আওতায় সম্পত্তির দখল ফিরে পাওয়া, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন, দলিল বাতিল, মালিকানা বা অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণামূলক ডিক্রি এবং নিষেধাজ্ঞার মামলাও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা যাবে।

এ ছাড়া নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার চেক ডিজঅনারের মামলাও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

সময় ও খরচ কমবে

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। আদালতে কোনো মামলা নিষ্পত্তিতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, লিগ্যাল এইডের এ সেবার জন্য কোনো টাকা-পয়সা লাগে না।

তার মতে, আদালতের রায়ে সাধারণত এক পক্ষ জয়ী এবং অন্য পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়। কিন্তু মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতা হলে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হতে পারে। এটিকে তিনি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য করুন