নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০২:২৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সালমান শাহ হত্যা মামলা : ডনের জামিন নামঞ্জুর


চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্র অভিনেতা ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন ডনের পক্ষে আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তারা দাবি করেন, মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ফরোয়ার্ডিংয়ে ডনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলেও আদালতকে জানান তারা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৯ আগস্ট ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ডনকে বিমানবন্দর থেকে ভোর ৫টার দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

সিআইডি জানায়, ডনকে হেফাজতে নিয়ে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং পুনরায় আত্মগোপনে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

ঘটনাটি তদন্ত করে সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরদিন ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলাটি করেন। এতে সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।

তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করে। পরে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। এরপর গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

মন্তব্য করুন