প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ধনকুবের বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সহপাঠীর দাবি, ফিবি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বা অ্যাডভান্সড কোডিংয়ের কোনো প্রথাগত কোর্স করেননি। অথচ তাঁর প্রতিষ্ঠিত শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ বর্তমানে প্রযুক্তিগত অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
ফিবির এক সাবেক সহপাঠীর দাবি, হিউম্যান বায়োলজিতে স্নাতক করার সময় তাঁর কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো কোর্স করার প্রয়োজন ছিল না। ফলে তিনি অ্যাডভান্সড কোডিংও শেখেননি। জীববিজ্ঞান গবেষণার প্রয়োজনে প্রযুক্তি বা কম্পিউটার সায়েন্স–সম্পর্কিত কিছু ক্লাস করে থাকতে পারেন, তবে সেটি নিশ্চিত নয় বলে দাবি করেছেন ওই সূত্র।
ফিবি গেটসের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের পক্ষ থেকে স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ ও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, ফিবি চাইলেই সরাসরি অ্যাডভান্সড কোডিং কোর্সে ভর্তি হতে পারতেন না। এজন্য আগে কয়েকটি প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন করার প্রয়োজন ছিল। তাঁর নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কোর্স করা কঠিন ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ফিবি ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি কোর্স করেছিলেন। এই কোর্স থেকেই তাঁর শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’র ধারণা আসে বলে জানা গেছে।
স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে ফিয়া প্রতিষ্ঠা করেন ফিবি। প্রতিষ্ঠানটি একটি ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ‘কুকি স্টাফিং’-এর অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্ট্যানফোর্ডের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, ফিয়ায় কাজ করার জন্য ফিবিকে দক্ষ কোডার হিসেবে তারা কখনো দেখেননি। এমনকি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রকাশের পর কম্পিউটার সায়েন্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী তা নিয়ে হাসাহাসিও করেছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
ফিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা সোফিয়া কিয়ানিও স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো প্রথাগত কোর্স করেননি বলে তাঁর এক প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন। কিয়ানি ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
এদিকে ফিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা ‘কুকি স্টাফিং’-এর অভিযোগই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাঁস হওয়া কিছু স্ল্যাক বার্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিয়ানি প্রকৌশলীদের সঙ্গে ফিয়ার কুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কুকি ড্রপ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
‘কুকি স্টাফিং’ এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনো ক্রেতাকে বাস্তবে নির্দিষ্ট রিটেইলারের কাছে পাঠানো না হলেও সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমনভাবে দেখানো হতে পারে যে ওই ক্রেতাকে পাঠানো হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্যায্যভাবে কমিশন পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফিয়ার ‘অটো ড্রপ’ ফিচারের কারণে কোম্পানিটি এমন কিছু কেনাকাটার ওপরও কমিশন পেয়ে থাকতে পারে, যেখানে বাস্তবে তারা ক্রেতাকে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার কাছে পাঠায়নি।
ফিয়া প্রথমদিকে ঘটনাটিকে সফটওয়্যার বাগ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল। তবে ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তা ও পরবর্তী প্রতিবেদনগুলো থেকে ওই ফিচারটি কয়েক মাস ধরে চালু থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অভিযোগ ওঠার পর ফিয়া জানিয়েছে, বিতর্কিত ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ফিয়ার ওই ফিচারগুলো বন্ধ করার পর কোম্পানিটির গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।
তবে অভিযোগের কারণে ফিবি গেটস ও সোফিয়া কিয়ানি ফৌজদারি মামলায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়বেন—এমন সম্ভাবনা কম বলে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা ও বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার ঝুঁকি থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন