প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০৪:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারের চিরচেনা প্যাটার্নই যেন পাল্টে দিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশা। রাত ১২টার পরও চাহিদা নেমে না গিয়ে থেকে যাচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে—যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ঘটার কথা নয় বলেই মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বৃহস্পতিবার সিপিডি আয়োজিত 'বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, "আগে আমাদের পিক আওয়ার ছিল সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত, তারপর ডিমান্ড কমে যেত। এখন রাত ১২টাতেও বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এটা কোনোদিনও হওয়ার কথা না।"
সমস্যার মূলে গিয়ে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, সারাদিন রাস্তায় চলাচলের পর বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা একসঙ্গে রাতে চার্জে বসানো হচ্ছে, আর এতেই তৈরি হচ্ছে গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চার্জিংয়ের পেছনে ব্যবহৃত সংযোগের সিংহভাগই বৈধতার তোয়াক্কা করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, "যেসব সংযোগ দিয়ে এসব যানবাহন চার্জ দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগই অবৈধ সংযোগ। আমরা এসব অননুমোদিত সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব অবৈধ সংযোগ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।"
শুধু বিদ্যুৎ নয়, গ্যাস সংকট নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। এলএনজি টার্মিনাল ও কারিগরি ত্রুটিজনিত বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন এফএসআরইউ স্থাপন ও অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। অতীতের নীতিগত ভুলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর ভিত্তি করে দেশটাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার আমদানির জন্য হলেও যদি ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা তৈরি ঠিকমতো করতো, দুটো এফএসআরইউর জায়গায় যদি ৪টি এফএসআরইউ বসাতো, তাহলে আমি মনে করি যে আজকে এই সমস্যাটা আমাদের দেখতে হতো না। আমেরিকা থেকে একটি বড় দল আসছে ইনভেস্ট করার জন্য, তারা এফএসআরইউতে ইনভেস্ট করতে চায়। তাদেরকে আমরা অনুরোধ করেছি দ্রুত আমাদের কাছে যেন ইন্টারেস্ট সম্পর্কে চিঠি দেয়।"
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর, যেখানে উঠে আসে সংকটের পরিসংখ্যানগত চিত্র। সিপিডির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে, যার মূল কারণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন হ্রাস ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা। এর প্রভাবে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায়।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন এবং বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন