প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মহাজাগতিক রশ্মির রহস্য উন্মোচনের পথে বিজ্ঞানীরা: বৃহস্পতির কাছে মিলল আলোর গতির কণা

ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বড় রহস্য হলো মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে। তীব্র শক্তিসম্পন্ন এই কণাগুলো ঠিক কোথা থেকে আসে এবং কীভাবে মহাকাশে এত দ্রুতগতিতে ছুটে বেড়ায়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল ছিল। এবার সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের কাছে প্রায় আলোর গতিতে ছুটে চলা একঝাঁক কণার সন্ধান পেয়ে এই রহস্য সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসার পাঠানো 'জুনো' মহাকাশযান বৃহস্পতির চারপাশ প্রদক্ষিণ করার সময় গ্রহটির ‘ফোরশক’ (Foreshock) অঞ্চলে অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন ইলেকট্রন কণাগুলোর গতি পরিমাপ করতে সক্ষম হয়। যানটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে কণাগুলো পৃথিবীর যেকোনো পরিবেশের তুলনায় অবিশ্বাস্য উচ্চ গতি অর্জন করতে পারে। প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল মহাজাগতিক রশ্মিসহ মহাবিশ্বের অন্যান্য উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাগুলো ঠিক কোথায় এবং কীভাবে তৈরি হয়, সে বিষয়ে নতুন ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ হাজির করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় শতবর্ষ আগে আবিষ্কৃত এই মহাজাগতিক রশ্মি মূলত সূর্য বা নক্ষত্রের মহাবিস্ফোরণ (সুপারনোভা) থেকে উৎপন্ন হতে পারে। বৃহস্পতির কাছে এই কণাগুলোর অবিশ্বাস্য গতি বৃদ্ধির মূল কারণ হলো গ্রহটির বিশাল আকৃতির ‘বো শক’ (Bow Shock)।

  • প্রক্রিয়া: গ্যাসীয় এই দানব গ্রহটির নিজস্ব বিশাল চৌম্বকক্ষেত্র যখন সূর্যের দিক থেকে ধেয়ে আসা সৌর কণার স্রোতকে তীব্র শক্তিতে বাধা দেয় বা ধাক্কা দেয়, তখনই এই বিশেষ বো শক অঞ্চলের সৃষ্টি হয়।

  • ফলাফল: এই প্রবল চৌম্বকীয় ধাক্কার ফলেই কণাগুলোর গতি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং তা প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতির কাছে ঘটা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসা মহাজাগতিক রশ্মির বৈশিষ্ট্যের হুবহু মিল রয়েছে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সুপারনোভার মতো মহাকাশের আরও বিশাল ও শক্তিশালী চৌম্বকীয় পরিবেশে এই কণাগুলো তীব্রভাবে ত্বরান্বিত হয়ে কল্পনাতীত গতি অর্জন করে এবং মহাজাগতিক রশ্মি হিসেবে পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন