প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে দেখা দেওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। একদিকে যেমন স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম কমেছে, অন্যদিকে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত হলেও, উচ্চ সুদের হারের কারণে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র নিম্নরূপ:
স্পট গোল্ড: ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমেছে।
স্বর্ণ ফিউচার (আগস্ট ডেলিভারি): ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রূপা (স্পট সিলভার): ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলারে নেমেছে।
প্লাটিনাম: ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৭৬৭.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্যালাডিয়াম: দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ১,২২৫.৬৬ ডলারে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গিয়ে ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
স্বর্ণের এই মূল্যহ্রাসের পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে:
ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। বাজারের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭২ শতাংশ।
ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলন: ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর আরও বেড়েছে। ট্রেজারি বন্ড লাভজনক হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
ভূরাজনৈতিক সংকটও বর্তমান বৈশ্বিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে:
ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতা সত্ত্বেও সোমবার ইসরায়েল পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। প্রতি ব্যারেলে তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং ফলশ্রুতিতে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ান্দা (OANDA)-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং মনে করেন, বাজার এখন ফেডের আরও কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে এগোচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ বেথ হ্যাম্যাকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার বর্তমানে প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের অবস্থায় রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায়, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
মন্তব্য করুন