প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালের অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সমর্থনে গৃহীত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদীয় অধিবেশনে এই সফরের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের পক্ষে এই সফর ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৭১ সালের ত্যাগ ও তিতিক্ষার কথা স্মরণ করে তিনি অতীতের কিছু সরকারের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন এবং বলেন, "বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও সফরটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।"
ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপনকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।" মন্ত্রী সংসদকে জানান, সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর বা প্রত্যাবর্তনের সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার সংস্কৃতি বন্ধ করার বিষয়টিকে political সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
সংসদীয় আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, এই সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালার বাস্তব প্রতিফলন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, "স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। ভবিষ্যতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।" একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা এবং সংসদকে রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ওপর জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
মন্তব্য করুন