তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নতুন পে-স্কেল কার্যকরের উদ্যোগে সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি, বেসরকারি খাতে বৈষম্যের উদ্বেগ

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বা নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন সুবিধা কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ঘোষণায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হলেও, দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী—বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের মধ্যে এটি নতুন করে বৈষম্য ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রাখা বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কোনো ধরনের নীতিগত বা সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না। জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে দিন দিন বাড়ছে, তাতে বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, তাদের জন্যও এখন একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো এবং কর্মসংস্থানের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নতুন পে-স্কেল একযোগে একবারে নয়, বরং কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটি বড় অংশ কার্যকর করা হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা এর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সরকারের নীতিগত আশা, নতুন এই আধুনিক বেতনকাঠামো জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিপরীত চিত্রে দেখা যায়, দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থানের সিংহভাগই আসলে বেসরকারি খাতনির্ভর। শিল্প, তৈরি পোশাক, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিনীতি, ন্যূনতম বেতন কাঠামো এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। বেশ কয়েক বছর আগে বেসরকারি খাতের জন্য একটি ‘সার্ভিস রুলস’ বা সেবা বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

সম্প্রতি নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি জাতীয় সংসদে এবং গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সাধারণ চাকরিজীবীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতের কর্মীদের অভিমত, রাষ্ট্র শুধু সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, উৎসব ভাতা এবং শ্রমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখুক। এই বিষয়ে সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও বেসরকারি খাতের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো পৃথক বেতন কাঠামোর পরিকল্পনা সরকারের বর্তমানে নেই। তবে শ্রমনীতি সংস্কার এবং বেসরকারি কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন সময়োপযোগী প্রস্তাব সরকার ভবিষ্যতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে।

মন্তব্য করুন