প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আজ শনিবার (২৭ জুন) সেখানে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। চুক্তি সম্পাদনের পর এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার পর নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক জোটের পরিচালিত যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধরত দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা রাতভর ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে শনিবার তারা মার্কিন বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। নির্দিষ্ট কোনো জাহাজে হামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রেভল্যুশনারি গার্ডস তাদের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহার না করা অজ্ঞাত কিছু জাহাজের উদ্দেশ্যে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ বর্ষণ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতর অবস্থিত বাহরাইন তাদের ভূখণ্ডে ইরানি ড্রোন হামলার খবর দিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজাই অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি করে যুদ্ধ সমাপ্তির সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বন্দর নগরী সিরিকের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার পরই রেভল্যুশনারি গার্ডস এর জবাব দেয়। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে মার্কিন মিত্র ইসরাইল গত মার্চ মাসে লেবাননে যে আক্রমণ চালিয়েছিল, সেখানে প্রতিশ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে ওয়াশিংটন ব্যর্থ হয়েছে। যদিও গত শুক্রবার (২৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব এখনো সীমিত এবং আজ শনিবারও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এই সহিংসতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে এসেছিল। নতুন করে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আগে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "আমেরিকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলেছে এবং এর পর যেকোনো সংঘাতের জন্য ইরানই দায়ী থাকবে।" সহিংসতাকে সহিংসতার মাধ্যমেই জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রোববারের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত না হলে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সাথে সাথে জ্বালানি তেলের বাজারে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন