প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবানন। আজ শনিবার (২৭切换) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকা নাবাতিহ-তে একটি ইসরাইলি ড্রোন অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে স্থায়ী peace প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকার একটি জনাকীর্ণ মোড় ‘ফারাহ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ইন্টারসেকশন’কে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোনটি আঘাত হানে। হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করে। অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছেন, "আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সেনাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।"
গত কয়েক মাস ধরে লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই রকেট ও বিমান হামলা বিনিময় চলছিল। এই সীমান্ত সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারত। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্তে লেবাননের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ একটি নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইসরাইলের এই ড্রোন হামলা এবং একই সাথে কাফর শুবায় ইসরাইলি সেনাদের নতুন করে অগ্রসর হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এই হামলাটি কোনো ভুল বোঝাবুঝি নাকি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে আশা জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে মাঠপর্যায়ে চরম সংকটে ফেলে দিল।
মন্তব্য করুন