প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভিসা চালুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, "২৮ জুন থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা যাবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট থেকে আবেদন করা যাবে।" এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসা (মেডিকেল) ভিসার কার্যক্রম বর্তমানে চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকালেই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর আগে গত ১২ জুন তিনি পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোলে পৌঁছালে সীমান্ত রেখায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গত ৫ জুন নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন তিনি। তিনি সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।
ভারতের জাতীয় রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে ওঠার কারণে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় সংযোগ রয়েছে। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় থাকার পর ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে নয়াদিল্লি তাঁকে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
মন্তব্য করুন