প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:২৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সম্পাদিত ১৪ দফার ঐতিহাসিক কাঠামোগত চুক্তির (ফ্রেমওয়ার্ক) পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তেল আবিব ও বৈরুতের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, লেবাননের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের ওপর সরাসরি শর্তযুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত চুক্তির দ্বিতীয় দফায় একটি পারস্পরিক ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় লেবাননের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) ধীরে ধীরে দেশের সমগ্র ভূখণ্ডে তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে এর জন্য একটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত জুড়ে দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় সব অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের বিদ্যমান সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে।
চুক্তির ধারা অনুযায়ী, অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের এই শর্তটি পুরোপুরি পূরণ এবং তা যথাযথভাবে যাচাই হওয়ার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনীও ধাপে ধাপে লেবাননের অভ্যন্তর থেকে তাদের সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে। চুক্তির বাকি দফাগুলোতে আর কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে সীমান্তে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠপর্যায়ে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বিক্ষিপ্ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে; যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে। এই চুক্তি প্রসঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইতিবাচক মূল্যায়ন করে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।
অন্যদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর দেশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ত্যাগ করবে না। সামরিক সূত্র মতে, বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে। নেতানিয়াহু আরও যোগ করেন, লেবাননের সেনাবাহিনীকে পরীক্ষামূলকভাবে আপাতত দুটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—যার একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তর অংশে অবস্থিত।
মন্তব্য করুন