প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার এক দিনের মাথায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্টেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী হামলার কঠোর জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, “মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রাখার জায়গা এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালিয়েছে।” সামরিক প্রশাসন আরও উল্লেখ করেছে, “গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, তখন ইরানের এমন বিপজ্জনক আচরণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।” এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিরিক বন্দরের কাছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক কনটেইনার জাহাজ 'এভার লাভলি'-তে হওয়া ড্রোন হামলাকে ১৭ জুনের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ স্থগিত করতে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত ছিল না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলোচনার এটি ছিল প্রাথমিক পদক্ষেপ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। সমঝোতার শর্তানুযায়ী ৬০ দিনের জন্য কোনো মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে ইরানকে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল লেবাননে টানা হামলা অব্যাহত রাখায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এর জবাবে গত সপ্তাহে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে ওশান রুট দিয়ে যাওয়ার সময় ‘এভার লাভলি’ নামক জাহাজটিতে ড্রোন আঘাত হানে। ঘটনায় কোনো নাবিক বা ক্রু আহত না হওয়ায় জাহাজটি গন্তব্যে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর দিকে অন্তত চারটি একমুখী হামলার ড্রোন (ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) ছুড়েছে দেশটি।” তিনি দাবি করেন, তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও চতুর্থ ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ড্রোনগুলোর একটি খুব দামি ও বিশাল আকৃতির পণ্যবাহী জাহাজের ওপরের অংশে শক্তভাবে আঘাত করেছে।”
পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ১৭ জুনের সমঝোতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো কার্যকর আছে কি না। এর জবাবে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গতকাল তারা যে হামলা চালিয়েছে, সেটা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি।” এভার লাভলি জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, “জাহাজটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের এমনটা করা উচিত হয়নি। তাই আপনারা শিগগিরই এর পরিণতি দেখতে পাবেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটল।
মন্তব্য করুন